মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
গাড়ি নেই, সম্পত্তি নেই — তাহলে এত বিতর্ক কেন?
অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিজের নামে কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। সোমবার (১২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, “আমার যতদূর জানা, ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত নামে কোনো সম্পত্তি নেই। এমনকি উনার নিজের চালানোর জন্য একটা গাড়িও নেই। তিনি কারো কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া তো দূরের কথা, নিজে কোনো সম্পত্তি সংগ্রহেও আগ্রহী নন।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনারা খেয়াল করে দেখুন, এই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না। আর যেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তার একটিও কি ইউনূস স্যারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি? তিনি কি এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কোনো রকম আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বা কোনো শেয়ার নিজের নামে রেখেছেন?”
তিনি আরও বলেন, “গ্রামীণ নামটি ঠিক আছে, তিনি দিয়েছেন, কিন্তু সেগুলো কি তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন? কেউ কি দেখাতে পেরেছে যে, এসব প্রতিষ্ঠানের এক টুকরো মালিকানাও তার নিজের নামে আছে? তার নামে থাকা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়েই তো এখনো সংশয় রয়েছে।”
শফিকুল বলেন, “গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি ২০০৯ সালেই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। সে সময় ইউনূস স্যার সৌদি আরব সফরে গেলে সেখানকার একটি প্রখ্যাত হাসপাতাল চেইন, যেখানে জার্মানির অংশীদারও ছিল, তাকে অনুরোধ করে বাংলাদেশ থেকে নার্স ও হাসপাতাল কর্মী পাঠাতে। তারা স্পষ্ট জানায়, রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে পাঠালে ব্যয় বেশি, কিন্তু ইউনূসের মাধ্যমে পাঠালে খরচ কমবে এবং প্রক্রিয়াও হবে স্বচ্ছ। তখন শেখ হাসিনার সরকারে এই প্রস্তাব যায়, কিন্তু অনুমোদন মেলেনি।”
তিনি বলেন, “এখন যদি প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের পরে অনুমোদন পায়, তাহলে এতে দোষ কোথায়? দেশে তো সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। কেবলমাত্র নামের সঙ্গে ড. ইউনূস জড়িয়ে আছে বলে কি সেটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হবে?”
এ সময় তিনি বলেন, “ড. ইউনূস ২০১২-১৪ সালের মধ্যে একটি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে চেয়েছিলেন। সে সময় পূর্বাচলে ২-৩ শত বিঘা জমি কেনা হয়। প্রতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে আবেদন নিতে গেলে বলা হতো, ‘আবেদন জমা দিয়েন না, আমরা অনুমতি দিতে পারব না।’ অথচ, এখন ছয় মাস ধরে অডিট করার পর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইউনূস স্যার সেখানে বিশ্বমানের একাডেমিক কাঠামো গড়তে চেয়েছেন, বিশ্বের বিখ্যাত অধ্যাপক আনতে চেয়েছেন।”
ভারতে বাংলাদেশি টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে প্রমাণ হয়, ভারত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় কতটা বিশ্বাস করে। ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো প্রতিদিন যেন নাটকের সংক্ষিপ্ত রূপ দেখায়। তাদের টিভি চ্যানেলগুলোয় যা চলে, তা বাংলাদেশের দর্শক নেয় না।”